Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

৩। পেশা ভিত্তিক প্রশিক্ষন

            মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াও পেশাভিত্তক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে একজন আনসার-ভিডিপি সদস্য/সদস্যা স্বনির্ভর হবার সুযোগ পায়। আনসার-ভিডিপি সংগঠন প্রতি বছর বিভিন্ন ধরনের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষন দিয়ে থকে। যেমনঃ-

@মৎস্য চাষ প্রশিক্ষন(সাধারণ আনসার এবং ভিডিপি পুরুষ)।

@কম্পিউটার বেসিক কোর্স (ব্যাটালিয়ন আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্য/সদস্যা)।

@ইলেকট্রিশিয়ান কোর্স (ভিডিপি সদস্য/ব্যাটালিয়ন আনসার/সাধারন আনসার)।

@নকর্শিকাঁথা কোর্স (ভিডিপি সদস্যা)।

@ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালন প্রশিক্ষন (ভিডিপি সদস্য)।

@উন্নত প্রযুক্তিতে আলু চাষ, সংরক্ষন ও ব্যবহার শীর্ষক প্রশিক্ষন (ভিডিপি পুরুষ)।

@ড্রাইভিং প্রশিক্ষন(ভিডিপি সদস্য)।

@গবাদী পশু পালন কোর্স (ভিডিপি সদস্য)।

@হাঁস-মুরগী চিকিৎস্যা ও পালন কোর্স (ভিডিপি সদস্য)।

@ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনার মেরামত কোর্স *ভিডিপিসদস্য/সাধারণ আনসার)।

@অমৌসুমী সবজি চাষ প্রশিক্ষন (আনসার ও ভিডিপি সদস্য/সদস্যা)।

@উন্নত প্রযুক্তিতে নার্সারী স্থাপন প্রশিক্ষন( আনসার-ভিডিপি সদস্য/সদস্যা)।

@দেশীয় পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগীর বাচ্চা স্ফুটন ও পালন(আনসার-ভিডিপি সদস্যা)।

@নারকেলের মালাই থেকে বোতাম তৈরী প্রশিক্ষন (ভিডিপি সদস্য)।

@আধুনিক ফল চাষ প্রশিক্ষন(আনসার ও ভিডিপি সদস্য)।

@উন্নত মানের আম চারা উৎপাদন প্রশিক্ষন(ভিডিপি সদস্য)।

@ষ্ট্রবেরী চাষ ও উৎপাদন প্রশিক্ষন (ভিডিপি সদস্য)।

@উন্নত জাতের মাশরুম চাষ প্রশিক্ষন (ভিডিপি সদস্য)।

@সেলাই প্রশিক্ষন আনসার ভিডিপি সদস্য/সদস্যা।

সাধারণ আনসার অংগীভুতির নিয়মাবলীঃ

৪। আনসার সদস্যের জন্য।

            যে কোন সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান/সংস্থার চাহিদা বিবেচনা করে তাদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নিন্মলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আনসার অংগীভুত করে দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়।

@জেলা কমান্ড্যান্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি কর্তক পূর্ব নির্ধারিত তারিখে আনসার বাছাই করে ভবিষ্যতে অংগীভুত করার জন্য প্যানেল প্রস্ত্তত করা হয়।

@বর্তমানে তিন বছরের জন্য সংস্থায় আনসার অংগীভুত করা হয় অর্থাৎ ১জন আনসারের অংগীভুতির মেয়াদ একনাগারে তিন বছর।

@অংগীভুতিকাল সমাপ্তির চার বছর পর কোন আনসার পুনরায় অংগীভুত হতে পারে।

@এক জেলার আনসার সদস্য অন্য জেলায় অংগীভুত হতে পারবেন না। তবে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও খুলনা জেলার বেলায় এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

@জেলা কমন্ড্যান্ট প্যানেলের ক্রমিক অনুযায়ী অংগীভুত আদেশ জারী করে থাকে। কোন প্যানেল ভুক্ত আনসার অংগীভুতির জন্য রির্পোট না করলে পরবর্তী ক্রমিক নম্বর ধারীকে অংগীভুত করা হয়।

@আনসার সদস্যদের অংগীভুতির জন্য ফায়ারিং অভিজ্ঞতাসহ ৪২দিনের মৌলিক প্রশিক্ষন প্রাপ্ত হতে হবে।

@অংগীভুতি হওয়ার জন্য প্যানেলভুক্তির নিমিত্তে নিন্মলিখিত যোগ্যতা প্রয়োজন হয়ঃ

            (ক) বয়সঃ ১৮ থেকে ৪০ বছর।

            (খ) শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ৮ম শ্রেনী পাস, তদুর্দ্ধদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

            (গ) উচ্চতাঃ ৫র্-৪র্ (পুরুষ), ৫র্-২র্ (মহিলা)(অধিক উচ্তা সম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে)।

            (ঘ) বৈবাহিক অবস্থাঃ বিবাহিত/অবিবাহিত উভয়েই।

            (ঙ) ইউনিয়ন চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক  ও নাগরিকত্ত্ব সনদ পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যায়িত কপি, সাধারণ আনসার মৌলিক প্রশিক্ষনের সনদ, পুলিশ ভেরিফিকেশন রির্পোট, জেলা কমান্ড্যান্ট কর্তৃক প্রদ্ত্ত অনাপত্তিপত্র (অন্য জেলার প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য), ০৬কপি পাসপোর্ট এবং ০৩ কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি ইত্যাদি প্রয়োজন হয়।

@সাধারনতঃ বছরের শুরুতে এবং মাঝামাঝি সময়ে অংগীভুতির জন্য প্যানেল প্রস্ত্তত করা হয়। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরে বিশেষ প্যানেল করা হয়।

@পিসি এপিসি দৈনিক ২৬৬/৭৮ টাকা হিসেবে ৩০ দিনে ৮,০০৩/৪০ টাকা, আনসার দৈনিক ২৫০/৩৬ টাকা হিসেবে ৩০ দিনে ৭,৫১১/- টাকা বেতন ভাতা হিসেবে প্রাপ্ত হন। এছাড়া পিসি/এপিসি/আনসারগন ২১২৯ টাকা হারে ২টি উৎসব বোনাস প্রাপ্ত হন।

@প্রত্যেক অংগীভুত আনসার সরকারী নির্ধারিত হারে মাসে ২৮ কেজি গম, ২৮ কেজি চাল এবং ২ লিটার তেল ভর্তুকি মূল্যে প্রাপ্ত হন।

@অংগীভুত হয়ে দায়িত্ব পালনকালে দূর্ঘটনাজনিত কারণে আনসার সদস্যগন বিভাগীয় কল্যাণ তহবিল হতে চিকিৎস্যা ব্যয় বাবদ আর্থিক সহায়তা লাভ করেন।

@কন্যা বিবাহ, মেধাবী সন্তানদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য আনসার সদস্যগন আর্থিক সহায়তা প্রাপ্ত হন।

@কৃতিত্বপূর্ন কাজের জন্য বিশেষ সম্মাননা পদক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

৫। নিরাপত্তা সেবা প্রত্যাশী সংস্থার জন্য।

            নিন্মোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে কোন প্রত্যাশী সংস্থা আনসার অংগীভুত করতে পারেন।

(ক) আবেদনঃকোন প্রত্যাশী সংস্থা জেলা কমান্ড্যান্ট দপ্তর রক্ষিত নির্দিষ্ট আবেদন ছক পূরন করে তাদের দাপপ্তরিক লেটার হেড প্যাডের সাথে সংযুক্ত করে জেলা কমান্ড্যান্টের দপ্তরে আনসার অংগীভুতির অনুরোধ পত্র দাখিল করেন।

(খ) বিভাগীয় পরিদর্শনঃআনসার প্রত্যাশী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আবেদন ফরমে উল্লেখিত তথ্য সমূহের সঠিকতা যাচাইকল্পে ও প্রস্তাবিত স্থানে আনসার অংগীভুত করা যাবে কিনা এ মর্মে সংশ্লিষ্ট আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা পরিদর্শনপূর্বক জেলা কমান্ড্যান্ট এর বরাবর রির্পোট দাখিল করবেন। সশস্ত্র আনসার নিয়োগ করতে হলে জেলা কমান্ড্যান্ট সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কমান্ডারের অনুমোদন নিবেন। প্রস্তাবিত স্থানে আনসারদের বসবাসের এবং অস্ত্র-গুলির নিরাপত্তা আছে কিনা সে বিষয়ে জেলা কমান্ড্যান্ট নিশ্চিত হবেন।

(গ) পুলিশ কর্তৃপক্ষের মতামত গ্রহনঃপ্রত্যাশী সংস্থার আনসার মোতায়েন করা যাবে কিনা এ বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে নির্ধারিত ফরমে ছাড়পত্র/অনুমোদন গ্রহন করা হয়।

(ঘ) আনসার অংগীভুত করনের সিদ্ধান্তঃযাবতীয় শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষের সন্তোষজনক মতামত পাওয়া গেলে জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার অংগীভুত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

(ঙ) সংস্থা হতে বেতন ভাতাদি গ্রহন ও পরিশোধঃকোন সংস্থা আনসার অংগীভুত করনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পর উক্ত সংস্থাকে নির্ধারিত হারে আনসারদের তিন মাসের বেতন ভাতার সমপরিমান অর্থ অগ্রীম হিসেবে নগদ, পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট এর মাধ্যমে জেলা কমান্ড্যান্টের দপ্তরে জমা করতে হয়। এছাড়া মাসিক নিয়মিত ভাবে বেতন ভাতাদি পরিশোধ করতে হয়। প্রতি বছর নির্ধারিত হারে দুটি উৎসব বোনস অংগীভুত আনসারদেরকে প্রদান করতে হয়।

(চ) ১০% আনুষাঙ্গিক অর্থঃআনসার প্রত্যাশী সংস্থা প্রত্যেক অংগীভুত আনসার সদস্যদের দৈনিক ভাতার ১০% আনুষাঙ্গিক অর্থ হিসেবে জেলা কমান্ড্যান্টের নিকট প্রদান করবেন।

(ছ) অংগীভুতির মেয়াদকালঃপ্রত্যাশী সংস্থা কমপক্ষে তিন মাসের জন্য আনসার নিয়োগ করবেন। সশস্ত্র হলে কমপক্ষে ১০ জন একং নিরস্ত্র হলে ৬ জন আনসার অংগীভুত করা হয়।

ছবি